মুক্ত কমিউনিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মুক্ত কমিউনিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ওপেন স্ট্রিট ম্যাপ, ওপেন সোর্স, ওপেন ডাটা ও জিআইএস প্রযুক্তির উপর এশিয়া অঞ্চলের সর্ববৃহৎ বার্ষিক সম্মেলন ‘স্টেট অব দ্য ম্যাপ এশিয়া ২০১৯’ সমাপ্ত হয়েছে।

রাজধানী খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) দুই দিন ব্যাপী সম্মেলন শেষ হয় ৪ নভেম্বর।

বাংলাদেশ ওপেন ইনোভেশন ল্যাবের সার্বিক সহযোগিতায় ওপেন স্ট্রিট ম্যাপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সম্মেলনে জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- মনিকো টেকনোলজি, ইউটেক সিস্টেমস, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা, এটুআই, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, গ্রুপ ম্যাপার্স, কিল্লা’র পাশাপাশি অ্যাপল, ফেসবুক, ম্যাপবক্স, গ্লোবাল লজিক, জাপান ফ্লায়িং ল্যাবস, কাঠমান্ডু লিভিং ল্যাবস ছাড়াও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, রেডক্রস, ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে প্রযুক্তির খাতের বিভিন্ন দিক ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে তরুণদের জিআইএস এবং মুক্ত সোর্স প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিভিন্ন প্রযুক্তিসম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিনিধিরা।

ফেসবুক থেকে আগত ডেভিড ইয়াং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কীভাবে ম্যাপকে উন্নত করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। মজিলা কর্পোরেশন ইন্ডিয়া থেকে আগত সুভাস দুল্লা মজিলা লোকেশন সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন এবং কীভাবে লোকেশন ডাটা অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

সম্মেলনের অন্যতম বক্তা নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবেরি থেকে আগত ডেভিড গার্সিয়া কিউজিআইএস কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তার উপরে একটি ওয়ার্কশপ নিয়েছেন।

ভারত থেকে আগত মজিলা ফাউন্ডেশনের হর্ষবর্ধন লাহিড়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। ঢাকা ওয়াসা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই থেকে আগত কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে এদেশে বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারের নানা রূপ ও ক্ষেত্র তুলে ধরেছেন।

প্যানেল ডিসকাশনে উপস্থিত ছিলেন কাঠমান্ডু লিভিং ল্যাবসের ড. নামারাজ এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পরামর্শক মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া নেপালের কাঠমান্ডু লিভিং ল্যাবসের অমন কে সি, রবিন ওঝা, ঐশ্বরিয়া, ভারতের সৌম্য, ভেনকন্না বাবু গুথুলা এবং ফিলিপাইনের মনিকা মে ইয়াং লিডারশীপ সম্পর্কে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেছেন। ডাটা প্রোটেকশন ও পলিসি সম্পর্কে জিওস্পেশাল মিডিয়ার অবনীপ দিংরা আলোচনা করেছেন। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তাওহিদুল ইসলাম জিওড্যাশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ম্যাপিং ক্ষেত্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ম্যাপিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ এবং কীভাবে মানুষের সাহায্যে ম্যাপিং ব্যবহৃত হতে পারে (দুর্যোগ, সামাজিক অবস্থা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পরিকল্পনা ইত্যাদি) এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় দিনের শেষের অংশে ছিল মুক্ত সোর্স প্রকল্প এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সভাপতিত্বে এই প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন কাঠমুন্ড লিভিং ল্যাবসের ড. নামা রাজ, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পরামর্শদাতা মো. শফিকুল ইসলাম, জাপানের আওইয়ামা গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের তাইচি ফুরুহাশি, ক্রিয়েটিভ কমন্স এর বাংলাদেশ লিড নাসির খান সৈকত সহ এই খাত সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজন।

আলোচনার পাশাপাশি এই অংশে দর্শকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন তারা। কথা হয় ওপেন ডাটা, ওপেন এডুকেশন ও মুক্ত লাইসেন্সে প্রকাশনা ও ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে এসবের ব্যবহার কেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে এগুলোর সম্পর্কে জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট কাজকর্মে অংশগ্রহণ কতখানি, স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজে তাদের অংশগ্রহণ আরো কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী ও আদিবাসীদের অংশগ্রহণে কী কী সমস্যা দেখা পাওয়া যায় এবং সেসবের সমাধান কীভাবে করা যেতে পারে তাও উঠে আসে প্রশ্নের দর্শকদের প্রশ্নের মাধ্যমে।

প্যানেলের সমাপ্তি হয় পরবর্তী স্টেট অব দ্য ম্যাপ এশিয়া সম্পর্কে ঘোষণার মাধ্যমে। শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া এ দুটি দেশই সম্ভাব্য তালিকায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, ২০২০ সালে ম্যাপপ্রেমীদের দেখা হচ্ছে সমদ্রপুরী শ্রীলঙ্কাতে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। তারকা (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যপূরণীয়। *